বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে তিনি সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন পরিদর্শন করেন।
নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ নেই উল্লেখ করে মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ধরনের চাপ নেই। কেউ এসে বলেনি যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতেই হবে। খুন, গুম ও লুটপাটসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের কর্মকাণ্ড সুপরিচিত। ফলে তাদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানোর মতো অবস্থায় কেউ নেই।
ভোট কারচুপির আশঙ্কা একেবারেই নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য শতাংশ। সরকার কিংবা প্রশাসনের কারও ক্ষমতায় থাকার কোনো আগ্রহ নেই। তাই এ বিষয়ে শঙ্কার কোনো অবকাশ নেই।
আওয়ামী লীগের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, তারা আন্দোলনকারীদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো—ছাত্র-জনতা, বিশেষ করে নারীরা রাজপথে নেমেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো কনজার্ভেটিভ এলাকাতেও নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন। এরপরও সবাইকে জঙ্গি বলার প্রবণতা দেখা গেছে। এভাবে সারাদেশের মানুষকে রাজাকার বা জঙ্গি আখ্যা দিলে শেষ পর্যন্ত কারা তাদের পাশে থাকবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ভোটের ব্যালটে ‘বিসমিল্লাহ’ না থাকার বিষয়ে প্রচারিত গুজব প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন সমন্বয়কারী ড. আলী রিয়াজ আগেই স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বন্ধুরা নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একটি ভালো, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংশয় ও গুজব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব মূলত টিকটক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যম থেকে ছড়ায়। বাস্তবে কারও পক্ষে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা নেই। গত নভেম্বরে আওয়ামী লীগ কী করতে পারে, তা দেশবাসী দেখেছে। বর্তমানে তাদের ডাকে মানুষ রাজপথে সাড়া দিচ্ছে না।
তিনি আরও যোগ করেন, যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তারা এতটা নির্বোধ নয় যে আবার ডলার পাঠিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করবে। তারা জানে, তাদের নেত্রী আর দেশে ফিরছেন না।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বীজন এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুল হাসান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সহসভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাতসহ জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তিনি আখাউড়ার খরমপুরে একটি মাজার পরিদর্শন করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...