বিজ্ঞাপন
জেলার ৫টি আসনে এবার মোট ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত ১৯ জন এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা কিছু আসনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও তাহিরপুর): এখানে মূল লড়াই হচ্ছে ধানের শীষের কামরুজ্জামান কামরুল ও জামায়াতের তোফায়েল আহমদের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা): বিএনপির মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতের মোহাম্মদ শিশির মনির। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে শিশির মনির এখানে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ): জেলায় সবচেয়ে বেশি ৭ জন প্রার্থী এই আসনে। বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের জয়রথ থামাতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (তালা প্রতীক)। এখানে খেলাফত মজলিসের শাহীনুর পাশা চৌধুরীও (রিকশা) বেশ সক্রিয়।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর): এই আসনে বিএনপির নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল)। এছাড়া জামায়াতের সামছ উদ্দিনও তরুণ ভোটারদের টানার চেষ্টা করছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার): সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এখানে ধানের শীষ নিয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত ১২টি উপজেলার পাঁচটি নির্বাচনী আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জেলার ৫টি আসনে সর্বমোট ৭২০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে ৩২৩টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচনী কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এবং ৪,২৫০টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য নিয়োজিত থাকছেন ১৪,১৪৬ জন কর্মকর্তা। এ ছাড়া, সরকারি চাকুরিজীবী ও প্রবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ১৮,০৮৭ জন ভোটার এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা মানিক বলেন, “লুটতরাজ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখছে।” অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জালাল উদ্দীন রুমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “ধানের শীষের জোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবে না, পাঁচ আসনেই বিএনপি জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।”
সাবেক সেনা কর্মকর্তা রহিছ উদ্দিন আহমদ মনে করেন, “নিরব ভোটই হবে এবারের নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের প্রধান নির্ণায়ক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহীদের কারণে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চমক দেখাতে পারেন কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...