বিজ্ঞাপন
শহরের মোহাম্মদপাড়া জামে মসজিদের পাশে ট্রাক সেল চালু হওয়ার পর থেকেই স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য সংগ্রহে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে প্রতিটি ট্রাকে মাত্র ৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় অধিকাংশ ক্রেতাই পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অনেকেই সরকারের কাছে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
ট্রাক সেল কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে গোপালগঞ্জ সিও অফিসের সামনেও টিসিবির ডিলার মাহিম মুদি স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ খা পণ্য বিক্রি করেন। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়—দীর্ঘ লাইন, সীমিত বরাদ্দ ও ভোগান্তি।
রমজানে টিসিবির নিয়মিত পণ্য সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাক সেলের পাশাপাশি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমেও পণ্য সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি ছোলা, এক কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারবেন। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১৫ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম খেজুর ৮০ টাকা। একজন গ্রাহক একবারে মোট ৫৯০ টাকার বিনিময়ে পাঁচ ধরনের পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
টিসিবি সূত্র জানায়, সারা দেশে মোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ২৩ হাজার টন পণ্য বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রতিদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি স্থানে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি স্থানে, অপর সাতটি মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৫টি জেলায় পাঁচটি করে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলী আকবর খান জানান, সরকার নির্ধারিত ২০ দিন ট্রাক সেল কার্যক্রম চলবে, যা আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। উপজেলা ভিত্তিক বণ্টনে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আওতাভুক্ত পৌরসভায় ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ট্রাক সেল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সদর উপজেলা তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়ন অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে।
এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানায়, সারা দেশে বর্তমানে ৬৬ লাখ স্মার্ট পরিবার কার্ড সক্রিয় রয়েছে। কার্ডধারীরাও রমজান মাসে নির্ধারিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ টন এবং মার্চ মাসে প্রায় ৩৩ হাজার টন পণ্য স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য পাওয়ার আশায় ট্রাক সেলে ভিড় করা সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—বরাদ্দ বাড়িয়ে যেন আরও বেশি মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...