বিজ্ঞাপন
সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নেশার টাকা জোগাড় করতে একটি আইফোন ছিনিয়ে নিতেই সিয়ামকে তার চার সহপাঠী মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
নিহত সিয়াম মোল্যা মুকসুদপুর উপজেলার ঝুটিগ্রামের ইতালী প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে এবং মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ৪ বছর আগে মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নানাবাড়িতে থাকতো।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ৭ মার্চ চার সহপাঠী সিয়ামকে নানাবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে সহপাঠী দিদার (১৬) ও পারভেজকে (১৭) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিয়ামের আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের টাকা জোগাড় করার পরিকল্পনা করে তার চার সহপাঠী—সাজিদ, পারভেজ, দিদারসহ আরও একজন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার (৭ মার্চ) তারা সিয়ামকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে লুকিয়ে রাখে। পরে ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি পার্শ্ববর্তী বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।
আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িত অপর দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সিয়ামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একটি আইফোনের জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...