বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দেন। এ সময় কার্যক্রমের উদ্বোধনও ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা লাঘব করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, হাওরাঞ্চলের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানাতে সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই বিশ্বাস থেকেই সরকার কৃষি ও কৃষকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
হাওর ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হাওরে কোনো অনিয়ম বা দুর্বল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না। ঠিকাদারনির্ভরতার পরিবর্তে টেকসই ও নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রম যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, নুরুল ইসলাম নুরুল ও কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী এবং অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী।
পরে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে অতিথিরা খরচার হাওরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করেন। এতে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় পুনরায় না ঘটে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, কার্যকর পরিকল্পনা ও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকা আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...