Logo Logo

তেঁতুলিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে পিআইওর দুর্ব্যবহার, খেজুর না নিয়েই ফিরে গেলেন সবাই


Splash Image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাইদুল ইসলাম শাহ।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় খেজুর বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাইদুল ইসলাম শাহ’র বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খেজুর গ্রহণ না করেই ফিরে গেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, খেজুর বিতরণের জন্য পূর্বে খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষকরা দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হন। তবে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। শিক্ষকদের দাবি, দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে বিকেল প্রায় ৩টা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পিআইও তার কার্যালয়ে খেজুর বিতরণ শুরু করেন।

বিতরণের সময় প্রতি প্রতিষ্ঠানের জন্য মাত্র ১ কেজি খেজুর দেওয়াকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও শিক্ষকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষকরা দাবি করেন, তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খেজুর নিলে নেন, না নিলে আন্দোলন ও মিছিল করেন।”

দেবনগড় ইউনিয়নের মদিনাতুল উলুম নুরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মফিজার রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাদের জানানো হয়েছিল যে, প্রত্যেক মাদ্রাসাকে ৪ থেকে ৫ কেজি খেজুর দেওয়া হবে। সেই প্রত্যাশায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষকরা এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু শেষে মাত্র ১ কেজি খেজুর দেওয়া হলে প্রশ্ন তোলায় তারা দুর্ব্যবহারের শিকার হন।

একই ধরনের অভিযোগ করেন রনচন্ডি নুরানী তালিমুল কোরআন ও হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার নাজেরা শাখার সহকারী শিক্ষক এবং ভজনপুর দারুস সালাম হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মো. আমিনার রহমান। তিনি জানান, শিক্ষকদের অপেক্ষায় রেখে পরে অপ্রতুল খেজুর দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

আরেক শিক্ষক হাফেজ আবু সাঈদ আনসারী বলেন, “আমাদের ৭০ থেকে ১০০ জনের বেশি ছাত্র রয়েছে, সেখানে মাত্র ১ কেজি খেজুর দেওয়া হয়েছে। এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং হাস্যকর। খেজুরের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে এ ধরনের আচরণ করা অনুচিত হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু পরিবেশে সরকারি সহায়তা বিতরণের আহ্বান জানান।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম শাহ বলেন, তার কাছে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ছিল, কিন্তু বরাদ্দ আসে মাত্র ১৫ কার্টুন, যেখানে প্রতি কার্টুনে ৮টি করে ১ কেজির প্যাকেট ছিল। সে অনুযায়ী মোট ১২০ কেজি খেজুর পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, “সব জায়গায় সমানভাবে দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কোথাও ১ কেজি, কোথাও ২ বা ৩ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।”

মিছিল করতে বলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি মিছিল করতে বলিনি। আমি শুধু বলেছি—আমার কাছে যা আছে, নিতে চাইলে নিন, না নিলে কিছু করার নেই।”

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু জানান, তিনি সেদিন ব্যস্ত থাকায় পিআইওকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে পিআইও’র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে তদন্ত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তেঁতুলিয়ায় দায়িত্ব পালন করতে অনেক কর্মকর্তা অনাগ্রহী থাকেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...