বিজ্ঞাপন
টুঙ্গিপাড়ার এমপিওভুক্ত গিমাডাঙ্গা নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষক ও গোপালগঞ্জ পোস্ট অফিস মোড়ের পুরাতন বই ব্যবসায়ী প্রতারক জাহিদ নিজেকে কখনো কলেজের অধ্যাপক, কখনো প্রতিষ্ঠিত বই ব্যবসায়ী, কখনো মাল্টিপারপাসের মালিক, কখনো রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি এসব পরিচয়ের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন এবং সেই সূত্র ধরে শুরু হয় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরবর্তী ধাপ।
প্রতারক জাহিদ ইউসিবি, অগ্রণী, স্ট্যান্ডার্ড, গ্রামীন ব্যাংক, বিসিকসহ আরো কয়েকটি ব্যাংক, এনজিও এবং মাল্টিপারপাস থেকে ভুয়ো কাগজ দেখিয়ে কোটি টাকার উপরে লোন পাস করিয়ে তা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া তিনি এতিম, বিধবা, উকিল, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায় যে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ভিসির সাথে আত্মীয়তার সুবাদে প্রতারক জাহিদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেয়া, সরকারি বদলিসহ বিভিন্ন তদবিরের কথা বলে বহু লোকের থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
পাওনাদাররা প্রতারক জাহিদের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে জাহিদ পোস্ট অফিস মোড়ে যে মার্কেট মালিকের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে পুরাতন বইয়ের ব্যবসা করতো সেই মালিকের কাছে বারবার নালিশ জানায়। জাহিদের এ হেন কার্যকলাপে তিক্ত-বিরক্ত হয়ে ঘর মালিক এক পর্যায়ে জাহিদকে দোকান থেকে উচ্ছেদ করে দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতারক জাহিদ ঐ মার্কেট মালিককে নানারূপ হুমকি-ধামকি এমনকি মালিকের একমাত্র ছেলেকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতারক জাহিদ গা ঢাকা দিয়েছেন। পলাতক থাকা অবস্থাতেও তার প্রতারণামূলক কার্যক্রম থামেনি, বরং গড়ে তুলেছেন একটি প্রতারণা চক্র। তার এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম সহযোগী হলেন সোনাকুড় নিবাসী তার এক মামা। পাওনাদাররা জাহিদকে তাগাদা দিতে আসলে তার মামা ঢাল হয়ে দাঁড়ান। সোনাকুড় এলাকার প্রভাব খাটিয়ে উল্টো পাওনাদারদের নানা রকম হুমকি-ধামকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন এই মামা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাতি নেতারাও যুক্ত আছেন জাহিদের এই প্রতারণা চক্রে।
প্রতারক জাহিদ বর্তমানে অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নতুন নতুন মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছেন। সেখানে নানা অজুহাত ও মিথ্যা বিপদের কথা বলে পুনরায় মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ ধার নিচ্ছেন এবং আত্মসাৎ করছেন। বর্তমানে তার এই সকল অনৈতিক কাজে সামগ্রিক সহযোগিতা করছে প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যরা।
প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, জাহিদুল ইসলামের কথাবার্তা অত্যন্ত মার্জিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই তাকে বিশ্বাস করে ফেলে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি আর যোগাযোগ রাখেন না এবং এক পর্যায়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। তার এই প্রতারণার জালে পড়ে সবাই এখন সর্বশান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক জাহিদ প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার দেনা। বর্তমানে সে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেস্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী সকলেই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক জাহিদকে আইনের আওতায় এনে অর্থ ফেরতসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...