বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত জসিম সরদারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— মনির সরদার (৪৮), তার স্ত্রী পপি আক্তারী (৩৫) ও সহযোগী রেজাউল কাজী (৫৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান মিয়ার ছেলে মিনহাজ মিয়াকে বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। চক্রটি মিনহাজকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একটি সংঘবদ্ধ মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে লিবিয়ায় মিনহাজের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে অসহায় বাবা নিজের ৭ শতাংশ জমি আসামি মনির সরদারের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য হন। পাশাপাশি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল হোতা মনির সরদারের নির্দেশেই বাংলাদেশে অবস্থানরত তার স্ত্রী ও সহযোগীরা এই অর্থ ও জমি সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেন। গত ৪ মাস ধরে মিনহাজের কোনো হদিস পাচ্ছে না তার পরিবার।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী মনিরুজ্জামান মিয়া আক্ষেপ করে জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দফায় দফায় টাকা পরিশোধ করার পরও তার ছেলেকে মাফিয়াদের হাতে জিম্মি করা হয়েছে। জমি ও অর্থ দেওয়ার পরও চক্রটি এখন আরও ১৮ লাখ টাকা দাবি করছে। তিনি এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার ছেলের সন্ধান দাবি করেছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-২৮) দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পাচার চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সংযোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের শেকড় উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...