বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বাছির।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ড. বাছির তার লেখায় উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই পরিচিত হলেও বাংলাদেশে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত—এমন নানা বিভাজন বিদ্যমান। এই বিভাজন এখন ভৌগোলিক সীমারেখায় পৌঁছেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ঢাকা’ এবং ‘ঢাকার বাইরের’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘প্রান্তিক’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বিগত সরকারের ‘এক জেলা, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ নীতিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ জনবল এবং অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর সংকট প্রকট হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মকর্তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।
প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়মিত আন্দোলন এবং সেশন জ্যাম এখন ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিত্যসঙ্গী। সেশন জ্যাম কমাতে অনেক সময় ক্লাসের সংখ্যা কমিয়ে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে দায়সারাভাবে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট করা হচ্ছে।
ড. বাছির আক্ষেপ করে বলেন, তিন ক্রেডিটের কোর্সে পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়ে ডিগ্রি প্রদান করায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঢাকার বাইরের এসব বিদ্যাপীঠ কি কখনো প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে?
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...