বিজ্ঞাপন
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহত গৃহবধূর স্বামী রায়হান রিতু (৩০), এবং সহযোগী জসিম (৩২) ও জিতু (৩৪)। তারা সবাই সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে রায়হান রিতুর সঙ্গে শিমু আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রায়হান ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে শিমুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ভুক্তভোগীর পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৯ এপ্রিল সকালে শিমুকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১০ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ১২ এপ্রিল নিহতের বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১২) দায়ের করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-১৩ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের গ্রেফতার করে।
অভিযানের বিষয়ে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি এবং এর থেকে সৃষ্ট নৃশংস অপরাধ দমনে র্যাব সর্বদা আপসহীন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সামাজিক অপরাধ নির্মূলে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...