বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আইন বিভাগের স্নাতক (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দপ্তর থেকে পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও কোনো শিক্ষক উপস্থিত না হওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর উত্তরপত্রগুলো পুনরায় দপ্তরে ফেরত নেওয়া হয়।
আন্দোলনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন বলির পাঁঠা হচ্ছি? আজ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, যা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। এই সমস্যার সমাধান কবে হবে বা আমাদের শিক্ষাজীবন কতটুকু পিছিয়ে যাবে, তা নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।"
এদিকে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষ এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষকদের চলমান অনড় অবস্থানের কারণে এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল জানান, আজ একটি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। আগামীকালও দুটি বিভাগের পরীক্ষা সূচি রয়েছে। দপ্তরের পক্ষ থেকে যথাসময়ে উত্তরপত্র পাঠানো হবে; শিক্ষকরা উপস্থিত হলে পরীক্ষা হবে, অন্যথায় পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সম্মান থাকলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা সমীচীন নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থ এবং সেশনজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচির আওতা থেকে ফাইনাল পরীক্ষাগুলোকে মুক্ত রাখতে এবং নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার জন্য শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...