বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের শুরু। ক্যাম্পাসের একটি ভবনে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক দেয়ালচিত্রের নিচে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এই কাজ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা মঙ্গলবার সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় অভিযোগ করেন, ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাদের কর্মীদের ওপর ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে কলেজের শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কলেজের সুনাম রক্ষার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন তারা।
শিক্ষকরা জানান, উত্তেজনার মুখে দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেলের শিফটের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন জানান, “ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক তৎপড়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।” বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...