Logo Logo

কাশিয়ানীতে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া, ৩২ পরিবার অবরুদ্ধ


Splash Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চলাচলের রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার ৩২টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ২১ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল সীতারামপুর গ্রামের স্বপন শরীফ ও রমজান শরীফ রাস্তার মাটি কেটে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেন। এমনকি রাস্তার মাঝে সরকারি খালের ওপর নির্মিত বাঁশ ও কাঠের সাঁকোর একটি অংশও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার ৩২টি পরিবারের অন্তত ৪০০ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এবং ধান কাটার এই মৌসুমে কৃষি পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা।

স্থানীয় বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন সরদার ও জাহিদ খান জানান, লেবু শরীফের বাড়ি থেকে জাহিদ খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট রাস্তা ও খালের ওপরের সাঁকোটি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এই পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। কিন্তু হঠাৎ করে স্বপন ও রমজান শরীফরা প্রায় ১৫০ ফুট রাস্তা কেটে ফেলে সেখানে ঘর তুলেছেন ও বেড়া দিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গৃহবধূ অরিফা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধান কাটার মৌসুম চললেও রাস্তা না থাকায় ধান বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। খেতেই ধান ফেলে রাখতে হচ্ছে, যা নিয়ে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।

তবে অভিযুক্ত রমজান ও স্বপন শরীফ রাস্তা বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। তারা তাদের জায়গায় ঘর তুলছেন এবং এই পথ দিয়ে কাউকে চলাচল করতে দেবেন না বলেই বেড়া দিয়েছেন।

পুইশুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য পিল্টন শিকদার বলেন, সরকারি রাস্তা এভাবে বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কর্ণপাত করেননি।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন মিয়া জানান, স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানে উভয় পক্ষকে ডাকা হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আইন অনুযায়ী বেড়া ভেঙে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...