বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চাটখিলে বিভিন্ন প্রকার মাদকে ছেয়ে গেছে। প্রতিনিটি ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টিরও অধিক স্থানে মাদকের আখড়া রয়েছে। মাদকের মধ্যে ইয়াবা টেবলেট ও গাঁজাই বেশি। উপজেলা প্রশাসন, ভ্রাম্যমান আদালত, থানা পুলিশ, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শতাধিক স্পটে ১০০ থেকে ১৫০ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন পাইকারী ব্যবসায়ী। এরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে অন্যান্য খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে। মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালীসহ অন্যান্যদের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করে আসছে। মাঝে মধ্যে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও এদের নিকট থেকে যে পরিমাণে মাদক পাওয়া যায়। তা দিয়ে কোর্টে চালান দিলে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এরা জামিনে চলে আসে।
পৌরসভার পৌর মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোর, মাছ ও মাংস বাজার সংলগ্ন স্থানে, খোকন ভিডিও গলি, সেন্টাল হাসপাতালের সামনে, বটতলা, বদলকোট ও পাল্লা রোড, থানা সংলগ্ন চা দোকান, ভীমপুর রোড সংলগ্ন শিশু কিশোর হাসপালের পিছনে এবং বেদে পল্লীতে। শাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশে বাইন্না বাড়ী, শাহাপুর-শ্যামপুর সড়কের মুখে, শাহাপুর উত্তর বাজার ভুতা বাড়ী, লিংক রোডের ভিতর, কলেজ রোড কিন্ডার গার্টেনের সামনের গলিতে, খিলপাড়া বালিয়াধর, শ্রীপুর, শিবপুর, দেলিয়াই বাজার থেকে ভূঁইয়া বাড়ীর দরজা, শংকরপুর নয়া দাই বাড়ীর দরজা থেকে চৌধুরী বাড়ীর দরজা, ছোট জীবনগর, খিলপাড়া সহ শতাধিক স্থানে মাদকের স্পট রয়েছে। তাছাড়া এম.ই.ও নামক থাইল্যান্ডী এক প্রকার জুয়ায় সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে টেম্পু, অটোরিক্সা ও রিক্সা চালক, দিন মজুর সহ মধ্যবৃত্ত ও নিম্নবৃত্ত পেশার লোকজন। তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থ এ জুয়া শেষ করছে। দিন শেষে সন্ধ্যায় খালি হাতে বাড়ী ফিরছে। অত্যন্ত ৫ শতাধিক পরিবার এ জুয়ার কারণে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ সব পরিবার অর্থের অভাবে সংকট ও ঝামেলা লেগে থাকে। ভুক্তভোগী অটোরিক্সা চালক জহির উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা জানান, তার স্বামী সারাদিন রিক্সা চালিয়ে যে অর্থ উপর্জন করে সন্ধ্যা জুয়া খেলে তার শেষ করে খালি হাতে বাসায় আসেন। অনেক সময় উপবাসও থাকতে হয় তাদেরকে। শাহাপুর বাজারের মনির হোসেন জানান, তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মাদকে আসক্ত হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে, মাদকের টাকার জন্য তার মায়ের সাথে ঝগড়া বিবাদ করেই থাকে। মাঝে মধ্যে পরিবারের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট আবু হানিফ জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এটি নির্মূল করতে হবে। থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মোন্নাফ জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তাছাড়া এ ব্যাপারে প্রতি মাসে কয়টি মামলা হয়। তা আইন শৃংঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমান করা হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...