হামলাকারী ছেলে ও আহত বোন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১০ মে) রাতে উপজেলার একটি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত। ঘটনার দিন রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওই যুবক ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে তার মা লাকি আক্তারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে বাঁচাতে স্বামী ও মেয়ে এগিয়ে এলে ঘাতক যুবক তাদেরও ছুরিকাঘাত করে জখম করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা লাকি আক্তারকে উদ্ধার করে দ্রুত দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্বামী ও মেয়েকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুল আজিম।
তিনি বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং হামলাকারীকে আটক করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে মাদকাসক্ত ছিল এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবার একাধিকবার তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সে পরিবর্তন হয়নি। এতে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
নিহতের এক প্রতিবেশী বলেন, “ছেলেটা অনেকদিন ধরেই নেশার সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবার অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাকে ফেরানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল।”
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদকাসক্ত তরুণদের কারণে পারিবারিক সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে, যা সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...