বিজ্ঞাপন
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, আজকের এই দিনটি জাতীয় জীবনে এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই সাথে কবিগুরুর ১৬৫তম ও জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের বিশ্বপ্রেম ও আত্মার মুক্তি শিখিয়েছেন এবং নজরুল দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবেই নয়, বরং সমাজ সংস্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে ধারণ করে একটি প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে সবাইকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে উপাচার্য মহোদয় উল্লেখ করেন, শিক্ষার মূল কাজ হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বৈশ্বিক বাজারে চলবে না, তা প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান করতে হবে। উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘রবীন্দ্র মেলা’র উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি বলেন, এই মেলা কেবল কেনাবেচার স্থান নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং রবীন্দ্র-চেতনার এক অপূর্ব প্রদর্শনী।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ প্রাঙ্গণে ‘রবীন্দ্র মেলা’র দ্বার উন্মোচন করা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।
এরপর বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সভাপতিত্বে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সেমিনার শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ২৩ জুন সকাল ১০টায় রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনার, যেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বিশিষ্ট নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার।
পরবর্তীতে বিকেল ৪টায় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।
প্রতিবেদক- মোঃ হাফিজ, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...