Logo Logo

জমি নিয়ে বিরোধের জের মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিককে হয়রানি


Splash Image

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে এস এম বাবুল হোসেন নামের এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


গত ২ জুন (মঙ্গলবার) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আমলী আদালতে চাঁদাবাজির এ মিথ্যা মামলা করেন সিরাজুল আলম ছিরু। মামলা তদন্তে টুঙ্গিপাড়া থানাকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম বাবুল হোসেন দৈনিক ভোরের দর্পন পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দক্ষিন বাশুড়িয়া (কালাপানি) গ্রামের মরহুম জহুরুল হক শেখের ছেলে। মামলায় সাংবাদিক সহ তার পরিবারের আরো ৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলার এজহারে সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার ১নং বিবাদী ও সাংবাদিক এস এম বাবুল হোসেন বলেন, বাদীর সাথে বাড়ীর জায়গা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তিনি আমাদের জায়গায় বসবাস করেন অথচ মানুষকে বলেন আমার বাবা-চাচা নাকি তাকে ওই জমি দিয়েছে। জমি বদলের অযুহাত দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের জমিতে স্থাপণা তৈরী করেন। এর আগেও আমার ঘরের দক্ষিণ পাশের জানালা বন্ধ করে টিনের বেড়া দিয়ে ১ম পক্ষের ছেলের জন্য টয়লেট নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে থানার হস্তক্ষেপে ওই টয়লেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয় এবং থানায় নন জিয়ার মামলা হয়। এরপরও আমার ঘরের পশ্চিম পাশের জানালার ভিতর টিনের চালা ঢুকিয়ে দেয় এই ছিরু। গ্রামের মুরাব্বিরা একাধিকবার তাকে ওই টিনের চালা সরিয়ে নিতে বললেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। সম্প্রতি কুরবানী ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে এসে দেখি আমার ঘরের পিছনের সেনিটারী পাইপের উপর দিয়ে বাদী ইটের গাঁথুনি শুরু করছে, বিষয়টি গ্রামের একাধিক মুরব্বিকে জানালে তারা ওই ইট সরিয়ে দিতে বলেন। এতে বাদীর রাজমিস্ত্রির উপস্থিতিতে পাইপের উপর দিয়ে ইট সরিয়ে ফেলি। এ সময় বাদী তার ঘরে ছিল তবে তিনি এ বিষয়ে কোন আপত্তি করেননি। পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি আমার ও আমার পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন।

ওই গ্রামের মুরব্বি জামিল আহমেদ বলেন, সাংবাদিক বাবুলের প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাই ছিরু কিছুদিন আগে বাবুলের বাড়ির সেনেটারী পাইপ লাইনের উপর দিয়ে ইটের গাঁথুনি দিচ্ছিল। বিষয়টি বাবুল গ্রামের মুরব্বিদের জানালে আমরা ছিরুকে সালিশে ডেকেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের সালিশে সাড়া না দিয়ে কোর্টে মিথ্যা মামলা করেন। মামলার এজহারে তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রামের আরেক মুরব্বি এজাজুল হক শেখ (ইজু) বলেন, সাংবাদিক ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে ছিরু যে মামলা করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চাঁদাবাজি বা ঝগড়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি, হয়রানি করতেই এই মিথ্যা মামলা।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমান খাঁন বলেন, বাদী-বিবাদী উভয়ই আমার প্রতিবেশি। তাদের মাঝে কোন ধরনের ঝগড়া-বিবাদ বা চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই আমরা জানতে পারতাম। সাংবাদিক ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আরেক প্রতিবেশি ইদ্রিস শেখ বলেন, আমরা পাশাপাশি বসবাস করি। ওদের বাড়িতে কোন শব্দ হলেও আমরা শুনতে পাই। চাঁদাবাজি, লুটপাট বা ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটলে অন্তত শব্দ তো টের পেতাম। এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। দিন মজুর ও একই গ্রামের বাসিন্দা বাদল খাঁন বলেন, উনি শ্বশুর বাড়ির লোকদের ক্ষমতা দেখিয়ে গ্রামের মানুষদের ভয়-ভীতিতে রাখেন। আমাদের সবার জেলা গোপালগঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও তিনি মামলা করেন বাগেরহাটে। ইতিপূর্বে তিনি গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি, মসজিদের ইমাম সহ আরো অনেককে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। তার বিচারের দাবি জানাই।

ওই গ্রামের একাধিক মানুষ জানান, সিরাজুল ইসলাম ছিরু একজন মামলাবাজ ও অত্যান্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। তার মতের কেউ বিরোধ করলেই তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এর আগেও গ্রামের অনেক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। তার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমান খাঁন ও তার নাবালক ছেলে ইসমাইল হোসেন। এছাড়া গ্রামের বহু মানুষ তার নির্যাতনের স্বীকার। তিনি এলাকাছাড়া হলে এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম ছিরু তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জায়গা সাংবাদিক ও তার পরিবার দখল করে রেখেছে। আমি কোন মিথ্যা মামলা দেয়নি। সে আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে। এর আগেও ওদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিলাম বাগেরহাটে তখন বনসই দিয়ে মিমাংসা করেছিলো। মসজিদের ইমামকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি মহিলাদের নিয়ে বাজে কথা বলেছিলেন তাই মামলা দিয়েছিলাম। আর সাংবাদিক বাবুলদের মধ্যে আমি অনেক জায়গা পাবো বলে আর কোন কথা বলতে চাননি।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, আদালত থেকে বিষয়টির তদন্ত এসেছে থানায়। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...