বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন রাত ১১টার দিকে কর্ণফুলী থানার সৈন্যারটেক এলাকার গ্রেস ইয়ার্ড থেকে চট্টগ্রাম মেট্রো-ট ১১-৭৭৪১ নম্বরের স্ক্র্যাপবোঝাই একটি ট্রাক আটক করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান।
ট্রাকচালক মোহাম্মদ বাদশার অভিযোগ, ট্রাক আটকের পর এসআই মিজান তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর নির্দেশ দেন এবং একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারেন। চালকের আরও দাবি, পরে তার ভিডিও ধারণ করে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় রাত ৪টার দিকে ট্রাকটি শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ট্রাকটিতে আবুল খায়ের কোম্পানি এবং মো. রফিক নামে এক ব্যবসায়ীর স্ক্র্যাপ মালামাল ছিল। মইজ্জারটেক ইউনুস মার্কেটে আনলোড করতে না পারায় মালামালগুলো গ্রেস ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।
মালামালের মালিক মো. রফিকের ভাষ্যমতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পরও নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবুল খায়ের কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে ট্রাকটি ঠিক কখন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের গরমিল দেখা গেছে। এসআই মিজানের দাবি, “চোরাই সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িটি আটক করা হয়েছিল। পরদিন (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর তা ছেড়ে দেওয়া হয়।” টাকা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিনও একই কথা জানান।
তবে ট্রাকচালক ও মালিকপক্ষের দাবি, ২২ জুন রাত ৮টার দিকে টাকা দেওয়ার পর ট্রাকটি ছাড়া হয় এবং রাত ১১টার দিকে সাগরিকা এলাকায় আবুল খায়ের কোম্পানির ডকে মালামাল পৌঁছায়।
বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কেন একটি ট্রাককে প্রায় ২০ ঘণ্টা আটকে রাখা হলো এবং গাড়ি ছাড়ার সময় নিয়ে কেন এই লুকোচুরি—তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা ফাঁড়ির জিডি রেকর্ড, ডিউটি রোস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...