বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে দুই দফায় মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন করা হলেও আদালত সর্বশেষ ১ জুলাই চূড়ান্ত রায় প্রদানের দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের পাঁচ বছরের কন্যাসন্তান আসমা আক্তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের নয় দিন পর ২ এপ্রিল বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংকি থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬), যে নিহতের জেঠাতো ভাই ও একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন আসামি শাহাদাত আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর ঘটনাটি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহটি সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে রাখে।
নির্মম ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে পুরো নোয়াখালী জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খুনি শাহাদাতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যাপক মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...