বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তার আল আমিন ব্যাপারীর বাড়ি ফরিদপুরের কোতয়ালী উপজেলার রঘুনন্দপুর গ্রামে। নিহত বর্না খানমের (২৮) বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তাঁদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত এবং আল আমিন প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই আল আমিন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি স্ত্রী বর্না খানমকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে যান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় তাঁকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরপাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় ভেজা লুঙ্গি, গামছা ও গেঞ্জি হাতে আল আমিনকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে তাঁদের ছেলে চিৎকার শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বর্না খানমের মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিজানুর রহমান মুন্সী বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...