বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (১ জুলাই) জেলা বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনিবার্য কারণে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ তৃতীয় দফায় পরিবর্তন করে আগামী ৬ জুলাই পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায়ের জন্য নিহত শিশুর পরিবারকে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের পাঁচ বছরের কন্যাসন্তান আসমা আক্তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের নয় দিন পর, বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংকি থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬), যে নিহতের জেঠাতো ভাই ও একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে, তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতেই এই মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তদন্ত চলাকালীন আসামি শাহাদাত আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করে, অবুঝ শিশুটিকে ধর্ষণের পর ঘটনাটি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহটি সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে রাখে।
নির্মম ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে পুরো নোয়াখালী জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খুনি শাহাদাতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যাপক মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় এলাকাবাসী, সুশীল সমাজ ও নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার শুরু থেকেই আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...