বিজ্ঞাপন
এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকে তিনি সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠিতে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার ঘণ্টা পরই সন্ধ্যায় আইজিপির জরুরি ও আকস্মিক তলবে তাকে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যেতে হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার একটি বিতর্কিত কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সিনিয়র সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই অডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, পুলিশ সুপার পদে কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ পাওয়ার জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে সেখানে বিশদ আলোচনা রয়েছে। ফেসবুক পোস্টে আরও দাবি করা হয়, নিয়োগের পর পূর্বচুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও তা যথা সময়ে না হওয়ায় অডিওটি ফাঁস করা হয়েছে। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বদলি ও নিয়োগ সরকারের নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডের বিষয়টি সম্পূর্ণ বিকৃত, এডিটেড ও বিভ্রান্তিকর। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই একটি চক্র এটি ছড়িয়েছে।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "দৈনিক দেশ রূপান্তরের ঢাকা অফিসের সাংবাদিক হামিদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশবিশেষ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ফোনে দাবি করেছিলেন যে, আমার এই বদলির পেছনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কার মাধ্যমে বা কীভাবে তা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
বর্তমানে তিনি ঝালকাঠির এসপি হিসেবে দায়িত্বে বহাল আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুল আলম মোল্লা জানান, "আমাকে আপাতত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ওয়েটিংয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জানানো হবে, আমাকে কোন জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সাড়া দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...