Logo Logo

নড়াইলে শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় রবির মৃত্যুদণ্ড


Splash Image

নড়াইলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি রবিউল সিকদার ওরফে রবিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনা ঘটার মাত্র এক মাসের মাথায় এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের পাঁচ বছরের শিশু কন্যা জান্নাতুল মাওয়া নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল সিকদার ওরফে রবির ঘরের ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় জান্নাতুলকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন, ২১ জুলাই জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদারকে একমাত্র আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা রবিউলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

ঘটনার পরপরই দ্রুত বিচার ও এক মাসের মধ্যে রায়ের দাবিতে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনগণ। বিক্ষুব্ধ জনতা নড়াইলের দত্তপাড়ায় বেনাপোল-যশোর সড়ক অবরোধের পাশাপাশি নড়াইল শহরে মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করে।

গ্রেপ্তারের পর আসামি রবিউল সিকদার বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু গত ৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। আদালত ৬ আগস্ট অভিযোগপত্রটি আমলে নেন এবং ৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নড়াইল জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আজিবুর রহমান, অতিরিক্ত পিপি তারিকুজ্জামান লিটু এবং অ্যাডভোকেট ইস্রাফিল খবির রাজু। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কাজী আবুল কালাম।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পিপি তারিকুজ্জামান লিটু জানান, এই রায়ে তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দ্রুততম সময়ে রায়টি কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মফিজুর রহমান। তিনিও সুবিচারের স্বার্থে এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...