Logo Logo

পাথরঘাটার কাকচিড়ায় নৌ-পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


Splash Image

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অবৈধ ট্রলিং বোট, বেহুন্দি জাল, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ইলিশের প্রজনন ও জাটকা সংরক্ষণ এবং মৎস্য আইন মেনে মাছ শিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় কাকচিড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ীর অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন কাকচিড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ী জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ইব্রাহীম খলীল এবং গীতা পাঠ করেন ফাঁড়ির কনস্টেবল অঞ্জন কুমার দাস।

কাকচিড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুর রহমানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কাকচিড়া ও চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ মো. গজনবী মিয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (দক্ষিণ বিভাগ) প্রবীর কুমার রায়, পিপিএম (বার)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার এস. এম. নাজমুল হক।

ফাঁড়ীর এসআই মো: আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন পাথরঘাটা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক, কাকচিড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ মো. আবুল কালাম এবং কাকচিড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. জাফর পহলান।

সভায় বক্তারা বলেন, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। বেহুন্দি, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে ইলিশসহ সার্বিক দেশীয় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়বে।

জাতীয় মৎস্যসম্পদ ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য নিয়মিত টহল পরিচালনা, ট্রলিং বন্ধ এবং জেলেদের সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয়রা নদীর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, কাকচিড়া বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ফাঁড়িতে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় জেলেরা জানান, ইলিশ রক্ষায় তারা মৎস্য আইন মেনে চলবেন। তবে অবৈধ শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈধ জেলেদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

সভায় নৌ-পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সভা সমাপ্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...