Logo Logo

মুকসুদপুরের কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

টিনসেড দিয়ে পানি পড়ে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী


Splash Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পশাগাতী ইউনিয়নের ১২৮ নম্বর পশ্চিম কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর পাশেই নির্মাণ করা হয় তিন কক্ষের একটি টিনসেড। দুই বছর না যেতেই সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় টিনের চাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।


বিজ্ঞাপন


বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে পশ্চিম কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সরকার বিদ্যালয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। ভবনটির তিনটি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম এবং একটি কক্ষে শিক্ষকদের মিলনায়তন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তবে ২০২৪ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে সেখানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই বছর পরিত্যক্ত ভবনের পাশে তিন কক্ষের একটি টিনসেড নির্মাণ করে সেখানেই শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে টিনসেডটির চালসহ বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই চাল ভেদ করে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ঝপঝপ করে পানি পড়ে। এতে বই-খাতা, বেঞ্চ, মেঝে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিজে যায়। মেঝেতে পানি জমে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বৃষ্টির সময় টিনসেডে অবস্থান করাও সম্ভব হয় না। তখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নিতে হয়। শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজও পরিত্যক্ত ভবনে বসেই করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার বলেন, টিনসেডটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে অঝোর ধারায় পানি পড়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বেশি বৃষ্টি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নিতে হয়।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ১২৪ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা আটজন কমে ১১৬ জনে দাঁড়ায়। চলতি বছরও আরও আটজন কমে বর্তমানে ১০৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে বিদ্যালয়ের চলমান সংকট দূর হয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন শেখ, তাজিম মুন্সি ও আবু হুরাইরা জানায়, বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে ঝরঝর করে পানি পড়ে। এতে বসা যায় না। ব্যাগ, বই-খাতাসহ তারা ভিজে যায়। বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ভিজে যান। মেঝেতে পানি জমে যাওয়ায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিম শেখের বাবা মনির শেখ বলেন, এভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। ভবন পরিত্যক্ত, আবার টিনসেডের অবস্থাও খুব খারাপ। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। এমন পরিবেশে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ইচ্ছা করে না। তবে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখেন বলেই তিনি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজিম মুন্সির মা তাসলিমা বেগম, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ শেখের বাবা রাজু শেখ ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারুক শেখের বাবা সাকু শেখ বলেন, দুই শিফটে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থা ভালো। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থী সংখ্যা আরও বাড়বে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ও শিক্ষার প্রসারে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। তারা এ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এ নাঈম বলেন, পশ্চিম কৃষ্ণাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনি বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাশের জরাজীর্ণ টিনসেডে বর্তমানে ক্লাস চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তিন-চার মাস আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ টিনসেডটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে টিনসেডটি সংস্কার করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...