Logo Logo

হাতকড়া হাতেই ফেসবুক লাইভ!

শান্তিগঞ্জে হাতকড়াসহ পুলিশের হেফাজত থেকে আসামির পলায়ন, পরে ফেসবুক লাইভ


Splash Image

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া (হ্যান্ডকাফ) পরা অবস্থাতেই এক মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুধু পালিয়েই ক্ষান্ত হননি, পুলিশের পরানো হাতকড়া হাতে ঝুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন ওই অভিযুক্ত। এমন নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও।


বিজ্ঞাপন


হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম আসির মিয়া (৩৫)। তিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরদপী পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একটি নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ আসির মিয়াকে আটক করে হাতে হাতকড়া পরায়।

তবে আটক করার কিছুক্ষণ পরই সেখানে স্থানীয়দের ভিড় ও হট্টগোল শুরু হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে এক ঝটকায় দৌড়ে পালিয়ে যান আসির মিয়া। পুলিশ পিছু নিলেও রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তিনি দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনার কিছু সময় পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় তীব্র আলোড়ন। পালিয়ে গিয়ে আসির মিয়া নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। সেখানে দেখা যায়, তার এক হাতে পুলিশের পরানো হ্যান্ডকাফ তখনও ঝুলছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আজির উদ্দিন জানান, “অভিযান চলাকালে আমি অন্য একটি সালিশে ছিলাম। পরে এসে জানতে পারি, পুলিশ আসির মিয়াকে আটকের পর সেখানে হইচই শুরু হয়। এই সুযোগে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। ভিড়ের মধ্যে ঠিক কীভাবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থেকে তিনি ছুটলেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের হেফাজত থেকে এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার জানান, “ফেসবুক লাইভের বিষয়টি এখনও আমার নজরে আসেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

একজন গ্রেপ্তারকৃত আসামি কীভাবে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালায় এবং প্রকাশ্যে লাইভ করার দুঃসাহস দেখায়—তা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার পেছনে দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হোক এবং পলাতক আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...