বিজ্ঞাপন
ভরা মৌসুমেও রূপালী ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ইলিশ মাছ খাওয়া এখন কেবল চোখের দেখাতেই সীমাবদ্ধ। মাছের বাজারে গিয়ে দাম শুনে দূর থেকেই রূপালী মাছের রূপ দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।
প্রতিবছর শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাজারে ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকে, ফলে দামও সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাকেরগঞ্জের প্রধান আড়ত ও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে মাছের জোগান নেই বললেই চলে। চাহিদার তুলনায় জোগান অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় রূপালী ইলিশ এখন বিলাসী পণ্যে রূপ নিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে চরম অস্বস্তিকর চিত্র। বর্তমানে বাজারে এক কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশের দামও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এক কেজিতে ৩ থেকে ৪টি ধরে এমন আকারের ইলিশ মাছের দাম প্রতি কেজি হাঁকা হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। আকাশচুম্বী এমন দাম শুনে মুহূর্তেই বাজার ছাড়ছেন সাধারণ আয়ের মানুষ।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, ইলিশ এখন সাধারণ পরিবারের পাতে ওঠার আর কোনো সুযোগ নেই। ক্রেতাদের একাংশের অভিযোগ, এই কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক সংকটের পেছনে জেলে ও অসাধু সিন্ডিকেটের বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রজনন মৌসুম উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার এবং নির্বিচারে জাটকা নিধনই আজকের এই আকালের মূল কারণ। জাটকা সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় বড় ইলিশের জোগান কমে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
স্থানীয় মৎস্য বিশ্লেষকদের মতে, ইলিশের এই সংকট কাটাতে কেবল নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বরঞ্চ সরকারের মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জেলে এবং ক্রেতাদের একযোগে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে রূপালী ইলিশ বাংলার খাবারের তালিকা থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...