বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। গত শনিবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়। বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, বাতিল বা স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ও সাতটি করে রিয়াদ এয়ারওয়েজ ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, সাতটি করে কাতার এয়ারওয়েজ ও সালামএয়ারের, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি। এসব যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্ব স্ব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে তারা ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি।
এদিকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনস বিমানসহ অন্য এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দরে নামানোর জন্য টিকিট পরিবর্তন করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা। পরিস্থিতি কবে নাগাদ ঠিক হবে, তা বলতে পারছে না কেউ।
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি ও বিরতি দিয়ে (ট্রানজিট) ফ্লাইট চলাচল করে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মাম কিং ফাহাদ বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুটি এয়ারপোর্টে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও এখন ঠিকঠাক রয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এয়ারলাইনসগুলো টিকিট থাকাসাপেক্ষ রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলেও নতুন রুটে আসন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, ভিসার মেয়াদ যাদের শেষের দিকে, তেমন যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগে থেকেই বুকিং থাকায় টিকিট পরিবর্তনের পুরো বিষয়টি আসন খালি থাকাসাপেক্ষ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান, বিমানের কোনো ফ্লাইটে যেন আসন খালি না যায়, সেজন্য কখনো ওভারবুকিংও হয়ে যাচ্ছে। ইমিগ্রেশন ক্রস করার পরও কিছু যাত্রীকে ফেরত আনার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পরের ফ্লাইটে আবার তারা চলে যাচ্ছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...