বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত আলাউদ্দিন শিকদার আমতলীর উপজেলার উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নুরানি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানকালে প্রতিনিধির হাতে আসে উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নুরানি বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দেওয়া ২০০৯ সালের একটি নিয়োগপত্র। সেই নিয়োগপত্রের সুত্র ধরেই অভিযুক্ত সুপার আলাউদ্দিনের নিয়োগ বাণিজ্যসহ আরো কিছু অনিয়মের প্রমাণ উঠে আসে।
১ ডিসেম্বর ২০০৯ সালের ওই নিয়োগপত্রে দেখা যায়, উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নুরানি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার "১/নিঃ/০৯" স্মারকের একটি চিঠিতে আমতলী উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামের মোতাহার মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আবদুল হক কে ৪টি শর্ত সাপেক্ষে অস্থায়ী ভিত্তিতে "টেকনিক্যাল শপ অ্যাসিস্ট্যান্ট" পদে নিয়োগ প্রদান করে পরবর্তী ৭দিনের মধ্যে নিয়োগপত্রে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সভাপতি আবদুল আজিজের কাছে যোগদানপত্র জমা দিতে বলা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই নিয়োগ পত্রের অনুলিপি প্রদানের কথাও উল্লেখ করা আছে।
আবদুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নিয়োগপত্রের নির্দেশনা মতে ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় আবদুল হক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আবদুল আজিজের কাছে যোগদান পত্র দিয়েছেন তিনি। পরে তিনি জানতে পারেন তার যোগাদানকৃত ওই প্রতিষ্ঠানে কারিগরি কোন শাখাই নেই এবং ওই নিয়োগপত্রটিও ভূয়া।
এসময় ভুক্তভোগী আবদুল হক বলেন, ১৫ বছর আগে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নূরানী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার তৎকালীন সভাপতি আবদুল আজিজ ও সুপার আলাউদ্দিন "টেকনিক্যাল শপ অ্যাসিস্ট্যান্ট" পদে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে আমাকে নিয়োগ করেছিলো। পরে আমি জানতে পারি ওই মাদ্রাসায় কারিগরি কোন শাখাই নেই। সভাপতি আবদুল আজিজ মারা গেছেন। আমার দেওয়া টাকা এখনো ফেরত পাইনি। এসময় তিনি নিয়োগের নামে নেওয়া ফেরত পাবার দাবী জানান।
ওই একই এলাকার মাদ্রাসা সুপারের প্রতারণার শিকার হওয়া হাফিজুর রহমান নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, ২০১৯ সালে সুপার আলাউদ্দিন তার বাড়িতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের কথা জানান, তবে নিয়োগ পেতে সভাপতি ও তাকে (সুপার আলাউদ্দিন) টাকা দিতে হবে বলে দাবী করেন। চাকুরিতে নিয়োগের আশায় পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বাজার মূল্যের থেকে কমদামে বিক্রি করে এবং সুদে টাকা সংগ্রহ করে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা তখনকার মাদ্রাসা সভাপতি নুরু মেকার ও সুপার আলাউদ্দিনের হাতে তুলে দেন। হাফিজুরের কাছ থেকে টাকা নিয়েও অপর একজনকে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেন সভাপতি ও সুপার। টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন সভাপতি ও সুপার। পরে আমতলী থানায় অভিযোগ করলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে ৪ লক্ষ টাকা ফেরত দিলেও বাকি আড়াই লক্ষ টকা এখনও ফেরত পাননি বলে জানান হাফিজুর রহমান। এসময় বাকি টাকা ফেরত চেয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সুপার আলাউদ্দিনের অপসরণের দাবী করেন তিনি।
স্থানীয় পঞ্চাশোর্ধ তাজেম মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি জানান, চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সুপার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়। তিনি জোবা বুঝে মাদ্রাসায় আসেন, অমাবস্যা- পূর্ণিমায় তিনি মাদ্রাসায় আসেন। সবশেষে সুপার আলাউদ্দিনের অপসরণ দাবি করেছেন স্থানীয় এই বৃদ্ধ।
মাদ্রাসাটির সাবেক সভাপতি আবদুল খালেক মোল্লা বলেন, আমার দায়িত্বপালন কালে আমি স্বচ্ছভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চেষ্টা করেছি। তখনও সুপার আলাউদ্দিন ১০ দিন ১২ দিন পর মাদ্রাসায় আসতো। বর্তমানে ১মাস দেড় মাস পর পর মাদ্রাসায় আসে একদিনে উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের একটি অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে খেয়ালখুশি মত প্রতিষ্ঠানে যেতেন সুপার আলাউদ্দিন। প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পরেন অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা সুপার। একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেছেন তিনি। অপর এক প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকা লোপাটের দায়ে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল আলাউদ্দিন শিকদারকে। এছাড়াও উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নূরানী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক এক সভাপতি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিড করে সুপার আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ জানালেও অদৃশ্য কারণে আলাউদ্দিন শিকদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বরং তিনি এখনো ওই প্রতিদিনে বহালতবিয়তে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি সমর্থকের ছত্র ছায়ায় আছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে উত্তর কালামপুর (কালিবাড়ি) নূরানী বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় গেলে প্রতিষ্ঠানে সুপারিন্টেন্ডেন্ট আলাউদ্দিন শিকদারকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে তিনি একদিনের ছুটিতে আছেন। অথচ শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার দুই দিনের স্বাক্ষর দেখা যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল দিয়ে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সুপার আলাউদ্দিন শিকদার বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই, তাদের (ভুক্তভোগীদের) কাছে কি কোন ডকুমেন্ট আছে? এরপর তরিগরি করে ফোন কেটে দেন।
এবিষয়ে আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
-সফিকুল ইসলাম রাসেল
বরগুনা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...