ইসলামী শ্রমনীতি: মানবিকতা, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক
বিজ্ঞাপন
শ্রম শব্দের আভিধানিক অর্থ মেহনত, শারীরিক খাটুনি বা দৈহিক পরিশ্রম। অর্থনীতির ভাষায় শ্রম হলো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে উৎপাদন কার্যক্রমে মানুষের শারীরিক ও মানসিক প্রয়াস। ইসলামে শ্রমকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—শারীরিক শ্রম, শৈল্পিক শ্রম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম।
ইসলামে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ভ্রাতৃত্বের ওপর। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—“তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই। তোমরা যা খাও, তাদেরও তাই খাওয়াও, আর যা পরিধান কর, তাদেরও তাই পরিধান কর।” ইসলামে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শ্রমিককে কোনোভাবেই দাস বা কেনা মানুষ মনে করা যাবে না। শ্রমিকের সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
মালিক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের সঙ্গে ভ্রাতৃসুলভ আচরণ করা
তাদের কষ্ট-দুঃখে পাশে থাকা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার সময়মতো নিশ্চিত করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—“অধীনস্থদের প্রতি দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের প্রতিও দায়িত্ব অর্পণ করেছেন আল্লাহ। কোরআনে বলা হয়েছে—“সর্বোত্তম শ্রমিক সে, যে শক্তিশালী ও আমানতদার।” (সূরা কাসাস: ২৬) অর্থাৎ শ্রমিককে কাজের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
ইসলামে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণে ন্যায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবী করীম (সা.) বলেছেন—“মজুরি নির্ধারণ ছাড়া কোনো শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।” আবার তিনি বলেছেন—“যদি শ্রমিককে অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত মজুরি প্রদান কর।
অতএব, ইসলামী শ্রমনীতি হলো এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়সঙ্গত পারিশ্রমিক, মানবিক ব্যবহার এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। এর মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যায় ও কল্যাণ।
-এমকে
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...