বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবার শেষে ব্যক্তিগত কাজে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন সাবেক এই সাংসদ। বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাতাড়ি মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটনাস্থল দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল অতিক্রম করছিল। মিছিলে থাকা জামায়াতের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ দ্রুত পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে নেতাকর্মীদের নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীদের কবল থেকে হিরুকে উদ্ধার করেন। পরে জামায়াত নেতারা তাঁকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেন এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
হামলার শিকার গোলাম সরোয়ার হিরু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি বাসা থেকে বের হওয়া মাত্রই কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ দিয়ে আমাকে আঘাত করতে থাকে। এতে আমি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছি।” অন্যদিকে, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সাবেক এমপির পাশে দাঁড়ানো জামায়াত নেতা মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গোলাম সরোয়ার হিরু পাথরঘাটার সন্তান। তিনি ও তাঁর পরিবার এই অঞ্চলের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের বাদ দিয়ে পাথরঘাটার রাজনীতি হতে পারে না। আমরা এই হামলার বিচার চাই।”
উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী গোলাম সরোয়ার হিরু ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে মিনার প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালের উপ-নির্বাচনেও তিনি হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...