বিজ্ঞাপন
গত শনিবার ইরানের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গত মাসে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এটিই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রথম বড় কোনো সমাবেশ। রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ধর্মঘট এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত জানুয়ারির গণবিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ২০০ সদস্যসহ ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও সরকার এসব মৃত্যুর জন্য 'সন্ত্রাসীদের' দায়ী করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিহতের এই তালিকা প্রকাশ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সন্নিকটে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সীমিত আকারে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন সন্দেহে পশ্চিমা বিশ্ব কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হলেও ইরান তাদের কাছে মাথা নত করবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে পেন্টাগন কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা পেতেই এই পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক তৎপরতার মুখে তেহরানের বর্তমান অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ ছাত্রবিক্ষোভ ইরান সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...