বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামনগর থানা এলাকায়। ৫৬ বছর বয়সী আব্দুল সালাম তার দুই সঙ্গী আরিফ ও জাভেদকে নিয়ে ওই এলাকায় সাহায্য (চাঁদা) তুলতে গিয়েছিলেন। সালাম জানান, পেছন থেকে এক যুবক এসে হঠাৎ তাদের আধার কার্ড দেখতে চায় এবং তাদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে কটূক্তি শুরু করে। একপর্যায়ে যুবকটি তাদের চড় মারে এবং মাথা থেকে টুপি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী আব্দুল সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শান্তভাবে বসে থাকা অবস্থায় মারধর করা হয়েছে এবং ভিডিও তুলে নিজেরাই ভাইরাল করে দিয়েছে। অভিযুক্ত বজরং দলের নেতা পরিচয় দিয়ে আমাদের ধর্ম তুলে কটু কথা বলেছে। অথচ পুলিশ দুর্বল ধারায় মামলা করায় সে দ্রুত জামিন পেয়ে গেল। আমরা বিবাদ চাই না, শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক প্রবীণদের থাপ্পড় মারছে। এই ঘটনার পর থেকে আব্দুল সালাম ও তার সঙ্গীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে সংবাদমাধ্যম থেকেও দূরে রয়েছেন। আব্দুল সালামের প্রতিবেশী শাকির আনসারি জানান, ভুক্তভোগীরা অত্যন্ত সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ।
অভিযুক্ত অক্ষয় শর্মার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয় সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক ব্রজেশ ইয়াদভ দাবি করেছেন, অক্ষয় শর্মা ‘গো-রক্ষা মিশন’ নামক সংগঠনের জেলা সভাপতি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হর্ন বাজানো নিয়ে তর্কের জেরে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে মুসলিম নিগ্রহের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তথাকথিত ‘গো-রক্ষক’দের হাতে গণপিটুনি ও ধর্মীয় হেনস্তা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ‘বিয়িং মুসলিম ইন হিন্দু ইন্ডিয়া’ বইয়ের লেখক জিয়া উস সালামের মতে, ভারতের মুসলিমরা এখন নিজ দেশেই ‘অদৃশ্য সংখ্যালঘু’ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছেন।
যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে, তবে বদায়ুঁর এই ঘটনাটি আবারও ভারতের ধর্মীয় সহনশীলতা ও বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...