ছবি : সংগৃহীত।
বিজ্ঞাপন
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব থেকে বড় সমাবেশ এবং ইরানের পাল্টা আঘাতের হুমকির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আলোচনাকে সংঘাত রোধের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনীতির কথা বললেও তেহরানকে চাপে রাখতে সীমিত পরিসরে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এবং দেশটি নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি শুরুর চেষ্টা করছে।
তবে ইরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, তাদের এই কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
জেনেভার এই আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফার মতো এবারও দুই দেশ সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি সরাসরি মেনে না নিলেও কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, যাকে ট্রাম্প "আর্মাডা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ট্রাম্প ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বা পারমাণবিক স্থাপনার ওপর প্রাথমিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এমনকি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে কঠোর আঘাত হানা হবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং বর্তমান সংকট নিরসনে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান আশা করছে তাদের ওপর আরোপিত পঙ্গু করে দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হবে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কোনো চুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর (হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি) নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের নেতারা প্রশাসনের কাছে এই সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফল কী হবে, তা এখন জেনেভা আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...