ছবি : সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো এই ব্যাপক হামলায় ২২৮ জন সেনা নিহতের পাশাপাশি আরও অন্তত ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। কেবল প্রাণহানিই নয়, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির দাবিও করেছে ইসলামাবাদ। সেনামুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের হামলায় আফগানিস্তানের অন্তত ৭৪টি সীমান্ত চৌকি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পাকিস্তানি সেনারা আরও ১৮টি আফগান সীমান্ত চৌকি নিজেদের দখলে নিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের এই বিপুল প্রাণহানির দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। আফগান কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত তাদের মাত্র আটজন সেনা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। দুই দেশের হতাহতের এমন বিপরীতমুখী পরিসংখ্যানে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিনিধি কামাল হায়দার পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরের পরও পাক-আফগান সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। পাকিস্তান যেমন আকাশপথে বিমান হামলা চালাচ্ছে, তেমনি আফগানিস্তানের ভেতর থেকেও সীমান্ত লক্ষ্য করে পাল্টা তীব্র গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। দুই পক্ষেরই ব্যাপক সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও উত্তপ্ত উল্লেখ করে তিনি জানান, পাকিস্তান এই পাল্টা হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রসঙ্গগত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ ২,৬৪০ কিলোমিটারের 'ডুরান্ড লাইন' নিয়ে অনেক আগে থেকেই সীমানা বিরোধ রয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে চরম ফাটল ধরে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সীমানা পেরিয়ে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...