ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
স্কোরবোর্ডে ২-০। কিন্তু ৯০ মিনিটের লড়াই ছিল মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও আটবারের বিশ্বকাপ খেলুড়ে দলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কা ছিল। সেটি হয়নি। সম্মানজনক এই হারেই জয়ের স্বাদ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই কোচ পিটার বাটলার-এর পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট, চীনের আক্রমণভাগকে আটকে রাখা। অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার বদলে তরুণ মিলি আক্তারকে গোলবারে নামানো ছিল সাহসী সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদানও দিয়েছেন মিলি। ১২ মিনিটে ওয়াং সুয়াংয়ের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে তিনি জানান দেন, বাংলাদেশ শুধু অংশ নিতে আসেনি।
৮৮ মিনিটে পর্দায় ভেসে ওঠে পরিসংখ্যান—বল দখলে চীন ৫৯%, বাংলাদেশ ৪১%। পাসে ৩৭৫ বনাম ২৫৭। তবু মাঠের লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল অনেক কম। রক্ষণে শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবীরন খাতুন ৪২ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য রাখেন ম্যাচ।
১৪ মিনিটে আসে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। বাঁ দিক দিয়ে দারুণ গতিতে উঠে এসে ঋতুপর্ণা চাকমার বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট শেষ মুহূর্তে ঠেকান চীনের গোলকিপার চেন চেন। গোল হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
২৪ মিনিটে ওয়াং সুয়াং গোল করলেও ভিএআর প্রযুক্তিতে অফসাইড ধরা পড়ে। থাই রেফারি পানসা চাইসাইন্ত গোল বাতিল করলে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ফেরে। তবে ৪৩ মিনিটে দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় চীন। যোগ করা সময়ে কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে বল জালে জড়ালে ব্যবধান হয় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে হালিমা, তহুরা খাতুন ও স্বপ্না রানী নামলেও গোল আসেনি। তবু মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দার লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচের আগের দিন এক চীনা সাংবাদিক তরুণ অধিনায়ক আফঈদাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মাঠের জবাব তিনি পেয়েছেন। এই হার বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বহুগুণ। ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নতুন স্বপ্ন দেখতেই পারে লাল-সবুজের মেয়েরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...