বিজ্ঞাপন
এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর সাধারণ শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত তুর্য্য বাড়ৈ ২০২৪ সাল থেকে সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি তার ডিভাইসে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তার ডিভাইস জব্দ করার পর সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদিত অনেক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং একটি সংগঠিত অপরাধ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ভর্তি বাতিল, ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং স্নাতক শ্রেণির সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিরাজ জানান, মঙ্গলবার রাতে ইফতারের পর এক নারী বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই আপত্তিকর ছবি তোলার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তুর্য্য। পরে তার ফোন চেক করলে শত শত ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টর টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, "অভিযুক্তের ডিভাইসটি বর্তমানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি, তবে তদন্ত চলছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই ছবিগুলো অন্য কোথাও সরবরাহ করা হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা আইন অনুযায়ী পুলিশে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...