বিজ্ঞাপন
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপে কোচিং সেন্টারের পরিচালক রিয়াজ হোসেন এবং “লিংকার্স” পেইজের মডারেটর তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মুন্না ওরফে আহম্মেদ মুন্নার কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে ইমরান মুন্নাকে বলতে শোনা যায়, “৬০ হাজার টাকার কেস ভাই। আমাদের প্যানেল চালাতে হলেও তো কিছু খরচ থাকে।” অডিওতে বিষয়টি সমাধানের জন্য পেইজটির এডমিন মুকতাদির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতেও শোনা যায় তাকে।
ঘটনার সূত্রপাত থেকে জানা যায়, পরিচালক রিয়াজ হোসেনের কাছে কয়েকজন শিক্ষকের বেতন বকেয়া থাকায় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন। এরই প্রেক্ষিতে “লিংকার্স” পেইজে একটি পোস্ট করা হয়। ভুক্তভোগী রিয়াজ হোসেনের দাবি, ওই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় মডারেটর ইমরান মুন্না তার অফিসে এসে সরাসরি ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাপের মুখে তিনি ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।
রিয়াজ হোসেন বলেন, “কিছু টাকা শিক্ষকরা আমার কাছে পাবেন এবং আমি তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু পোস্ট সরানোর নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আমাকে এবং আমার প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন, “আগে বিসিএস দেওয়ার শখ ছিল, এখন একটা পেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” অন্য এক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম সিকদার লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গেলেও শয়তানি ছেড়ে যায়নি। লিংকার্সকে চাঁদাবাজির প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়েছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে মডারেটর ইমরান মুন্না সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, পেইজটির এডমিন ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুকতাদির রিজভী জানান, শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পোস্ট করা হয়েছিল এবং রিয়াজ বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে মডারেটরের ৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া এই অডিও ক্লিপ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...