বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা এখনো সুসংহত রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি পৃথক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো স্পষ্ট ঝুঁকি দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সূত্র উল্লেখ করেছে যে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। বর্তমানে ইরানি ‘শাসনব্যবস্থা কোনো তাৎক্ষণিক বিপদে নেই’ এবং জনগণের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই গোপন অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর আসলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে যে গভীর সংহতি রয়েছে, তা এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ফুটে উঠেছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে—এমন কোনো সুনিশ্চিত নিশ্চয়তা তারা পাচ্ছেন না।
তবে সূত্রগুলো এটিও জোর দিয়ে বলেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমানসের পরিস্থিতি যেকোনো সময় মোড় নিতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (ODNI) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও ইসরায়েল মনে করছে, ওয়াশিংটন এখনো এই যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার মতো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে ইরানজুড়ে হামলার আতঙ্ক এবং ধ্বংসযজ্ঞ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...