Logo Logo

ববির পুলিশ ফাঁড়ি যেনো ভুতুড়ে ঘর, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা


Splash Image

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো পুলিশ সদস্য না থাকায় ফাঁড়িটি এখন কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই ফাঁড়িটিতে পুলিশ না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিক্ষার্থীরা এই জনশূন্য ফাঁড়িটিকে ‘ভুতুড়ে ঘর’-এর সাথে তুলনা করছেন।


বিজ্ঞাপন


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-ভোলা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের টহল ও তদারকি না থাকায় ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, "পুলিশ সদস্য না থাকায় ক্যাম্পাসে যেকোনো অভ্যন্তরীণ ঝামেলা বা বাইরের লোকজনের সাথে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রশাসনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এখানে পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি।"

পুলিশ ফাঁড়ি অকেজো থাকার সুযোগে আইন-শৃঙ্খলার তদারকি করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১২ মার্চ (বুধবার) রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেট থেকে ৭ জন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তুলে নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইডি কার্ড দেখানোর পরেও তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও ‘তুই-তোকারি’ করা হয়। এমনকি তাদের মারার জন্য লাঠি বের করা হয়। একপর্যায়ে ভোর ৪টার দিকে তাদের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভ্যানে উঠতে বাধা দিয়ে হেঁটে ক্যাম্পাসে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান মাহবুব বলেন, "ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি সচল থাকলে আমাদের এভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো না। সেনাবাহিনী এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।"

তবে এই বিষয়ে ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি জানান, গভীর রাতে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। তাদের গায়ে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং পরবর্তীতে পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ফাঁড়ি সচল করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন যে, পুলিশ ফোর্স চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই চিঠির কোনো প্রতিফলন বা সুফল এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। ফলে ক্যাম্পাস এলাকায় এক ধরনের অভিভাবকহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...