Logo Logo

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে ১ ক্রিকেটারসহ ৪ জন নিষিদ্ধ


Splash Image

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর তথা ২০২৫ সালের আসরে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একজন ক্রিকেটার, দুইজন টিম ম্যানেজার এবং একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অভিযোগ গঠন করেছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে বিপিএলের আগের তিন আসরে দুর্নীতির দায়ে একজনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠলে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটি ৯০০ পৃষ্ঠার বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিসিবির ইনটেগ্রিটি ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল এটি যাচাই-বাছাই করেন। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, জুয়ায় সম্পৃক্ততা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন:

১. অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): ম্যাচের ফলাফল বা অগ্রগতির ওপর বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণ করার দায়ে অভিযুক্ত।

২. মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক): তদন্তে ড্যাকোকে (DACO) সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা প্রদানের দায়ে অভিযুক্ত।

৩. মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার): ড্যাকোর তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি এবং তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলে তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত।

৪. রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ম্যাচের পরিস্থিতি বা ফলাফলের ওপর সরাসরি বাজি ধরার দায়ে অভিযুক্ত।

বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ বা বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দিতেন। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিপিএলের এই ফিক্সিং সন্দেহের কারণেই সবশেষ বিপিএলের নিলামে এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো তারকাদের রাখা হয়নি। যদিও বিসিবির চূড়ান্ত রিপোর্টে এই বড় তারকাদের নাম পাওয়া যায়নি, তবে বিসিবি তাদের তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

বিসিবি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কোনো মন্তব্য তারা করবে না।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...