ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
১. অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম
এটি মূলত আলাদা কোনো অ্যাপ নয়; বরং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত একটি বিল্ট-ইন ফিচার। গুগল বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সর ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। কোনো এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করলে গুগলের সার্ভার তা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ভূমিকম্প নির্ধারণ করে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যবহারকারীদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। অনেক ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক এস-ওয়েভ পৌঁছানোর আগেই ব্যবহারকারী সতর্ক হতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে এই সুবিধা চালু রয়েছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই
স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়
শক্তিশালী কম্পনের ক্ষেত্রে পুরো স্ক্রিন জুড়ে জরুরি সতর্কতা দেখায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস থেকে চালু বা বন্ধ করা যায়
২. মাইশেক (MyShake)
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি-এর গবেষকদের তৈরি এই অ্যাপটি স্মার্টফোনকে ক্ষুদ্র ভূকম্পন সেন্সরে রূপান্তর করে। ব্যবহারকারীর ফোন ভূমিকম্পজনিত কম্পন শনাক্ত করলে তথ্য সার্ভারে পাঠানো হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে এটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
রিয়েল-টাইম ভূমিকম্প সতর্কতা
ভূমিকম্পের অবস্থান, মাত্রা ও গভীরতা দেখায়
গবেষণার জন্য ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ করে
৩. আর্থকোয়েক নেটওয়ার্ক (Earthquake Network)
এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তৃতীয় পক্ষের ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ। ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনের সেন্সর ও সরকারি সিসমিক নেটওয়ার্কের তথ্য একত্র করে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে যেসব দেশে সরকারি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নেই, সেখানে এটি কিছুটা কার্যকর হতে পারে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ
কাস্টমাইজড নোটিফিকেশন
মানচিত্রে ভূমিকম্পের অবস্থান দেখার সুবিধা
৪. কোয়েকফিড (QuakeFeed)
আইওএস ব্যবহারকারীদের মধ্যে কোয়েকফিড বেশ জনপ্রিয়। এটি মূলত বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীদের কাছে দ্রুত নোটিফিকেশন পাঠায়। যদিও এটি প্রকৃত অর্থে আগাম সতর্কতা দেয় না, তবে ভূমিকম্পের পরপরই নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
রিয়েল-টাইম ভূমিকম্প আপডেট
অবস্থানভিত্তিক সতর্কতা
ভূমিকম্পের ইতিহাস সংরক্ষণ
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফিচারটি চালু করতে করণীয়
ফোনের Settings-এ যান। এরপর Safety & Emergency অপশনে প্রবেশ করুন।এবার Earthquake Alerts অপশনে ট্যাপ করুন। ফিচারটি বন্ধ থাকলে Turn On বা Enable করুন। কিছু স্মার্টফোনে এই অপশন Location অথবা Advanced Settings-এর মধ্যেও থাকতে পারে।
যেসব শর্ত পূরণ থাকতে হবে
গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা সুবিধা পেতে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে
ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় থাকতে হবে।
লোকেশন সার্ভিস (GPS) চালু থাকতে হবে।
সর্বশেষ Google Play Services ইনস্টল থাকতে হবে।
ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত হতে হবে।
দুই ধরনের সতর্কবার্তা
গুগল সাধারণত দুই ধরনের ভূমিকম্প সতর্কতা পাঠায়। Be Aware Alert: তুলনামূলক কম মাত্রার কম্পনের ক্ষেত্রে এই নোটিফিকেশন আসে। এতে ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। Take Action Alert: শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পুরো স্ক্রিনজুড়ে জরুরি সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হয়। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দে সতর্ক সংকেত দিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আইফোন ব্যবহারকারীরা কী করবেন?
গুগলের এই সুবিধাটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য। তবে আইফোন ব্যবহারকারীরা স্থানীয় সরকারি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা, দুর্যোগ সতর্কবার্তা কিংবা বিশ্বস্ত তৃতীয় পক্ষের ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
সতর্কবার্তা পেলে যা করবেন
ভূমিকম্পের অ্যালার্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন।
জানালা, কাচ ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকুন।
কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করবেন না।
বাইরে থাকলে খোলা স্থানে চলে যান।
গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করুন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...