অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মোসা. রিয়া আকতার।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজাপুর উপজেলার রয়েল ক্যাফেতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র হালদারের মেয়ে অনামিকা হালদার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিক অমূল্য চন্দ্র হালদার, তাঁর স্ত্রী রিনা হালদার, ছেলে রাজিব হালদার ও প্রতিবেশী সমীর চন্দ্র মালাকার উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে অনামিকা হালদার জানান, ২০২২ সালে ৪৭ নম্বর রাজাপুর মৌজার ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমি বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে মোসা. রিয়া আকতারের কাছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় তাঁরা বিক্রি করেন। একই মৌজার আরও ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি রাজাপুর সদর ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামের সমীর চন্দ্র মালাকারের কাছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। জমি বিক্রির পর একাধিকবার নিখুঁতভাবে মাপজোক করে ক্রেতাদের সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সেই সঠিক মাপ অনুযায়ী জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রিয়া আকতার ক্ষমতার প্রভাবে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ জমির পরিবর্তে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রিয়া আকতার ও তাঁর স্বামী মো. রফিক হাওলাদার উপজেলা পরিষদে চাকরি করার সুবাদে প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন রবিবার সকালে স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা অমূল্য হালদারের বসতবাড়ির জমির সীমানা বেড়া ও টিন ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখল করে নেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
জমির মালিক অমূল্য হালদার বলেন, ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে রাজাপুর থানায় ফোন করা হলে পুলিশ এসে দখল কার্যক্রমে বাধা দিলেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হিন্দুধর্মাবলম্বী ও সংখ্যালঘু হওয়ায় তাঁদের দুর্বল মনে করে এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও জমি ফেরতের জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানান।
এদিকে জমি দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোসা. রিয়া আকতার দাবি করেন, তাঁর কাছে জমি বিক্রি করা হলেও আগে মাপজোক করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি নিজে আমিন (ভূমি পরিমাপক) এনে মেপে সীমানায় পিলার বসিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস এ বিষয়ে জানান, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই, তবে তিনি দ্রুত খোঁজখবর নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...