বিজ্ঞাপন
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জামালপুরের আট পৌরসভা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় জেলার আটটি পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বকশীগঞ্জ পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়।
২০১৩ সালে বকশীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর কয়েকজন প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০১৯ সালের মার্চে পৌরসভার প্রথম মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ে। সড়ক নির্মাণ, পাকাকরণ, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পৌর শহরের জলাবদ্ধতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিশেষ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে পানহাটি মোড় পর্যন্ত সড়কে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছিল। এ সমস্যা সমাধানে দুটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়।
নির্মিত ড্রেনের একটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড–পানহাটি মোড় থেকে এনএম স্কুল রোড হয়ে কাগমারীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত এবং অপরটি মালিবাগ মোড় থেকে মধ্যবাজার হয়ে পানহাটি মোড় হয়ে পুরাতন গরুর হাট পর্যন্ত। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল দুর্গা এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণ হলেও বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পানি ড্রেনে নামছে না। একই সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার জমে থাকা পানিও ড্রেনে প্রবেশ করে নিষ্কাশনের পথ পাচ্ছে না। ফলে ড্রেন থাকলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না পৌরবাসীর।
বর্ষার সময় এসব সড়কে পানি জমে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রিকশা-অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানির নিচে সড়কের গর্ত ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
পৌর এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, ড্রেন নির্মাণের সময় আমরা আশা করেছিলাম জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু এখনো সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নামছে না। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা দরকার।
মোটরসাইকেল চালক রিপন মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
মধ্যবাজারের পানের দোকানদার রফিক মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়। ক্রেতারা সহজে আসতে পারেন না। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হয়। ড্রেন নির্মাণ করা হলেও আমরা তার সুফল পাচ্ছি না।
বাজার করতে আসা সামিউল হক বলেন, বৃষ্টি হলেই বাজারে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বকশীগঞ্জ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুহেল রানা বলেন, আমি গত ৬ জুলাই থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এখানে আছি। যতটুকু জানতে পেরেছি, ওই ড্রেনের পানি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পুকুরের মালিক পানি প্রবেশের পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে জলবায়ু প্রকল্পের অংশ থেকে নতুন করে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী ড্রেন দুটির পানি নতুন করে নদী বা খালের দিকে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। মূলত দুটি ড্রেনকে সংযুক্ত করে নদী বা খালে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেই এ সমস্যা আর থাকবে না।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...