বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে জানান, গত ১২ আগস্ট (বুধবার) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মোটরসাইকেলে বের হওয়ার সময় নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮) ও ইমরানসহ (৪৫) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁরা তাঁকে টানা-হেঁচড়া ও মারধর করে উপজেলার সামনের একটি ঘরে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ছেলে সৌরভ দেওয়ান এবং স্বজন হাবিবুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ, দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংক চেকের পাতা দাবি করে অভিযুক্তরা। এ সময় নাজিম উদ্দিনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক তিনটি একশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর ছেলে লোহাগড়া থানায় যোগাযোগ করলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর বাইকের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া গেলেও স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও ডেমির পাতাগুলো ফেরত দেয়নি অভিযুক্তরা। উক্ত ভূয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাম্পগুলো দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজিম দেওয়ানের ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রায় পাঁচ মাস আগে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিকে প্রথম দফায় সাড়ে তিন লাখ এবং গত ১৪ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। মোট পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পরও সৌরভকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় অভিযুক্তরা এবং টাকা ফেরত দিতেও গড়িমসি করতে থাকে। পরবর্তীতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ জুলাই রাতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষে ইমরানসহ অন্যান্যরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণ কিংবা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে জানান।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে লেনদেন সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার দিন তারা নিজেদের পাওনা ও লেনদেন নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজিম উদ্দিন দেওয়ানকে অবরুদ্ধ বা আটকে রাখার কোনো সত্যতা সরেজমিনে পায়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...