Logo Logo

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি, জরুরি সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ


Splash Image

চট্টগ্রামজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। জুলাই ও আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়ে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণের গ্রাফ জ্যামিতিক হারে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২২ জন, তা জুলাইয়ে লাফিয়ে পৌঁছায় ৫৩৬ জনে।


বিজ্ঞাপন


আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তা কয়েক গুণ বেড়ে বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নতুন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

রোগীর এই লাগামহীন চাপে বন্দরনগরীর সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগী গিজগিজ করছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোতে। মেঝে ও বারান্দায় অতিরিক্ত বিছানা পেতেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের বর্ষা ও শরতের থেমে থেমে বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছে। নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ির ছাদবাগান, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিসের প্রধান প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্তত ১৫৫টি সম্ভাব্য ‘লার্ভা হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিত্যক্ত অবকাঠামো ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা শীর্ষে রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সচেতন হতে হবে।

‘থ্রি-ডি’ (3D) সূত্র মানা: বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের কোথাও যেন টানা তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

*উৎস ধ্বংস: ছাদবাগান, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা ও গাড়ির টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার করে উল্টে রাখতে হবে।

*ব্যক্তিগত সুরক্ষা: দিনের বেলা ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ফুলহাতা জামাকাপড় পরানো জরুরি।

*দ্রুত পরীক্ষা: জ্বরকে সাধারণ মৌসুমী ফ্লু মনে করে অবহেলা না করে প্রথম দিনেই এনএস-১ (NS1) পরীক্ষা করানো এবং প্লাটিলেট কমলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জীবন রক্ষায় অপরিহার্য।

সংকট নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক লার্ভিসাইড (বিটিআই) প্রয়োগ ও ফগিং কার্যক্রম শুধু রোগীর বাড়ির ৫০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো নগরীতে বিস্তৃত করতে হবে। যেসব নির্মাণাধীন ভবন ও স্থাপনায় এডিসের লার্ভা মিলবে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু টেস্ট কিট, স্যালাইন ও জরুরি ওষুধের জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং হটস্পটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ রক্তদান ও চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করা জরুরি।

চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুর এই মরণঘাতী ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে নগর প্রশাসন, স্বাস্থ্য খাত এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের এখনই সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...