দায়িত্বে অবহেলা করলে উপার্জন হারাম হয়ে যায়
বিজ্ঞাপন
ইসলামে প্রতারণা, ধোঁকা ও দায়িত্বে ফাঁকির কোনো স্থান নেই
কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার মানেই হলো নির্ধারিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করা। অথচ দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে পূর্ণ বেতন গ্রহণ করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনটি বড় গুনাহ—আমানতের খেয়ানত, চুরি ও জুলুম।
কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে অবহেলা করা আমানতের খেয়ানত।
মালিকের অজান্তে কাজ ফাঁকি দিয়ে পূর্ণ বেতন গ্রহণ করা চুরির শামিল। আর দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে বেতন নেওয়ার চুক্তি ভঙ্গ করে পূর্ণ বেতন ভোগ করা জুলুম। আলেমদের মতে, এ ধরনের উপার্জন নিঃসন্দেহে হারাম হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র জিনিস গ্রহণ করেন।” (মুসলিম: ১০১৫)। হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না—এ হাদিসে এ কথাই সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামে আমানত রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।” (সুরা নিসা: ৫৮)। নবীজি (সা.) বলেছেন, “মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি—মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও আমানতের খেয়ানত করা।” (বুখারি: ৩৩)
কাজে ফাঁকি দিয়ে বেতন গ্রহণ করা কেবল প্রতারণাই নয়, বরং জুলুম। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, “আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।” (মুসলিম: ৬৭৩৭)
চুরি, জুলুম বা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কাজের বিনিময়ে বেতন গ্রহণ ন্যায্য অধিকার, তবে ফাঁকি দিয়ে নেওয়া সেই বেতন হারাম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং আখিরাতে এর কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করুন এবং দায়িত্বে অবহেলা ও জুলুম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
-এমকে
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...