বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে এই হৃদয়বিদারক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশুটির মা লিয়া মনি আক্তার অভিযোগ করেছেন, জন্মদাতা বাবা ও নিজের প্রেমিক হৃদয় বেপারীর কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিশুটির মা লিয়া মনি, নানা মো. ফারুক হোসেন মাঝি, নানি পলি বেগম, চাচা বেল্লাল মাঝি ও ফুফু জোসনা বেগম। বক্তারা জানান, ২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় বেপারীর সাথে লিয়া মনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে লিয়া মনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সে সময় হৃদয় বেপারী ও তার স্বজনরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় বেপারী ও তার স্বজনরা। পরে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা গা ঢাকা দেন। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠান। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর খবর পেয়ে লিয়া মনির পরিবার শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। ডিএনএ পরীক্ষাসহ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ মার্চ অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে চাইল্ড হোম থেকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে পুনরায় শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে শিশু জেসমিনের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় লিয়া মনি বাদী হয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে হৃদয় বেপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
তবে অভিযুক্ত হৃদয়ের বাবা আবুল বেপারী তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত হৃদয় বেপারী পলাতক রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত হৃদয় বেপারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...