অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানামুখী সংকটের মধ্যেও একটি ভালো বাজেট উপহার দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে এই বাজেট দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানের এই কঠিন সময়েও সরকার বাজেটে সাধারণ মানুষের কথা ভুলে যায়নি এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।
সরকারের ওপর ঋণের বিশাল বোঝার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবদিক থেকেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে খুবই খারাপ। এই চরম প্রতিকূল ও ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যেই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি থেকে এটি একটি ভালো শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি দেশবাসীকে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এই শুরুটার ওপর ভর করেই দেশ সামনের দিকে সফলভাবে এগিয়ে যাবে।
গত দুই বছর তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসা এবং বর্তমান সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বিনিয়োগ পরিস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে মূলত বিনিয়োগভিত্তিক। বিগত দিনে টাকা ছাপিয়ে কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে একটি ঋণাত্মক ও ঋণনির্ভর অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমান বাজেটের একটি বিরাট অংশই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে।
তিনি আরও জানান, এই ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি কার্যকর পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট বা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্রমান্বয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগের ওপর বেশি জোর দেওয়া, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষণ করতে পারবে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। একই সাথে দেশকে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি’ বা ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের যে স্বপ্ন রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...