বিজ্ঞাপন
ম্যাচের তৃতীয় দিনেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তবে সেখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। চতুর্থ ও শেষ দিনে প্রোটিয়া বোলারদের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব বজায় রেখে দলকে পৌঁছে দেন মহামূল্যবান প্রথম ইনিংসের লিডের ঠিকানায়। সেই পথ ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ করলেন এক স্বর্ণালী অধ্যায়। মাত্র ৪৫০ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরির মহাকাব্যিক মাইলফলকে পা রাখেন হৃদয়।
এই অভাবনীয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তাওহিদ হৃদয়। একই সঙ্গে লাল-সবুজের প্রথম ব্যাটার হিসেবে দেশের বাইরে বিদেশি কন্ডিশনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তিও এখন শুধুই তার নামের পাশে। দেশের মাটিতে অতীতে রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল এই ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেও বিদেশের মাটিতে এমন অবিশ্বাস্য কীর্তি ছিল একেবারেই অধরা।
হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ইনিংসের মজবুত ভিত্তি গড়ে উঠেছিল আগের দিনই জাকের আলী অনিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজনের ১৫১ রানের যুগলবন্দি ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে বসা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে। যদিও মাত্র ৬ রানের জন্য ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি মিস করে ১৬৮ বলে ৯৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন জাকের। এরপর অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেননি হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজন গড়ে তোলেন ১৮৫ রানের আরও একটি বিশাল জুটি, যেখানে সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে ১৭১ বলে লড়াকু ৮৭ রান।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখেছিল। লেসেগো সেনোকওয়ানের ১১১ ও সিনেথেম্বা কেশিলের ১২৮ রানের জোড়া সেঞ্চুরির সঙ্গে গ্যাভিন কাপলানের ৯৭ রানের সুবাদে ৫১২ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড় করায় প্রোটিয়ারা। তার জবাবে তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ দিনে অন্য সব সমীকরণ মুছে গিয়ে ২২ গজে কেবলই রচিত হলো তাওহিদ হৃদয়ের অবিস্মরণীয় এক রেকর্ডগাঁথা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...